মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বের হওয়ার পর এক নারীকে মারধর, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জ থানায় দায়ের করা জিডিতে ভুক্তভোগী অনন্যা হাওলাদার (২৩) অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক আরিফ দেওয়ানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি সিরাজদিখান থানা একটি লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রকার সমাধান না পেয়ে,মুন্সীগঞ্জ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন।
সেই অভিযোগের শুনানিতে বুধবার উভয় পক্ষ মুন্সীগঞ্জ কোর্টসংলগ্ন লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় দুপুর আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে অনন্যা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বের হয়ে কোর্টের গেটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এ সময় তার স্বামী আরিফ জামান, শ্বশুর হালিম দেওয়ান, শাশুড়ি নাজমা বেগম ও ননদ ঝুমা দেওয়ান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে স্বামী তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মেরে জখম করেন। অন্যরা তাকে টানাহেঁচড়া করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে লাথি মারেন এবং চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি দিয়ে আঘাত করেন। অনন্যার অভিযোগ, একপর্যায়ে তার স্বামী গলা চেপে ধরলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে লিগ্যাল এইডে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাপ দেন। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে রাস্তাঘাটে সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ কোর্টে যাতায়াতের সময় অভিযুক্তদের দ্বারা নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে জানান অনন্যা হাওলাদার। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তছলিম উদ্দিনের কাছে করা জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে আরিফ জামান (৪০), হালিম দেওয়ান (৫৫), নাজমা বেগম (৫০) ও ঝুমা দেওয়ানের (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিডির সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।









