, ,
, ,

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে শেষ মুহূর্তের সমীকরণ: সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে মামুন হাসান, কফিল উদ্দিন ও মিল্টন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল, প্রত্যাশা ও নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় একাধিক অভিজ্ঞ নেতার নাম উঠে আসায় শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড কাদের ওপর আস্থা রাখে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কফিল উদ্দিন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। পাশাপাশি সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে।তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এসব নামের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পাবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

ফলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ও দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।সভাপতি পদে আলোচনায় মামুন হাসান: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের প্রত্যাশাঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে মামুন হাসানকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল থেকে যুবদল—দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।মামুন হাসান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি পরিচিত।

তাঁর সমর্থকদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট পরিচালনার আলোচনায় প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

মামুন হাসানের অনুসারীদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৪২৬টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। এ দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। তাঁর সমর্থকেরা আরও মনে করেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়নে বিবেচিত হওয়া উচিত। ঢাকা-১৫ আসনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন অনুসারীরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পরও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ইতিবাচক দিক।

তবে একটি মহানগর কমিটির নেতৃত্বের জন্য অতীতের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বর্তমান সাংগঠনিক সক্ষমতা, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, বিরোধ নিরসনের দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। মামুন হাসানকে ঘিরে সমর্থকদের মূল প্রত্যাশা—রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদান যেন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা দলীয় সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের ওপর।

এম. কফিল উদ্দিন: সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা: সভাপতি পদে আলোচিত আরেকটি নাম এম. কফিল উদ্দিন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদ্য সাবেক  আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনছেন সমর্থকেরা। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা ৷  বিজিএমইএ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান  হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে ছিলেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।কফিল উদ্দিনের সমর্থকেরা মনে করেন, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির মতো বৃহৎ সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্বে আসতে হলে শুধু অতীতের ভূমিকা নয়, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা, অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন: রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নগর প্রশাসনের দায়িত্ব: সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা যুক্ত রয়েছে।তাঁর সমর্থকদের দাবি, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি মাঠপর্যায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নগর প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তাঁকে আলোচনায় রেখেছে বলে মনে করেন অনুসারীরা।

তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও দলীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বের দায়িত্ব ভিন্ন। নতুন কমিটির নেতৃত্বে তাঁর সম্ভাবনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আমিনুল হক ও মোস্তফা জামান: আগের কমিটির অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে।২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর গঠিত ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।আগের কমিটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য একটি বিবেচ্য বিষয়। তবে নতুন কমিটিতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, তা নির্ধারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিক সমন্বয়: ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।সংসদীয় কার্যক্রম, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতা তাঁর নেতৃত্বের সম্ভাবনা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। তবে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে চূড়ান্ত করা হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

সাধারণ সম্পাদক পদেও চলছে হিসাব-নিকাশ:সভাপতি পদের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও আলোচনা কম নয়। সম্ভাব্য নাম হিসেবে রয়েছেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, সাবেক সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন সাংগঠনিক নেতা। সাধারণ সম্পাদক পদটি শুধু একটি পদবি নয়; এটি প্রতিদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সভা-সমাবেশের সমন্বয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক বিরোধ নিরসনে এই পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।  তাই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, সময় দেওয়ার সক্ষমতা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীলভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের যোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তৃণমূলের প্রত্যাশা: পদ নয়, প্রয়োজন আস্থার নেতৃত্ব: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—কেমন নেতৃত্ব চান তাঁরা?রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় যাঁরা সংগঠনের পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদানের মূল্যায়ন চান অনেক নেতাকর্মী। একই সঙ্গে তাঁরা চান এমন নেতৃত্ব, যারা ব্যক্তিগত বলয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারবেন এবং থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করবেন। রাজনৈতিক ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারিত হয় দায়িত্ব পালনের দক্ষতা, সততা, সমন্বয়ক্ষমতা, কর্মীদের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে। নতুন কমিটির কাছে প্রত্যাশা—নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যেন বিভক্তির কারণ না হয়; বরং তা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে। পদপ্রত্যাশীদের সমর্থকদের আবেগ ও প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাও হবে নতুন নেতৃত্বের অন্যতম পরীক্ষা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি? উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর, পল্লবী, তুরাগ, বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ও গাবতলীসহ রাজধানীর বিস্তৃত জনবহুল অঞ্চলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ অঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য শুধু বড় সমাবেশ বা মিছিল যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সক্রিয় থানা ও ওয়ার্ড কমিটি, নিয়মিত কর্মীসভা, স্থানীয় সমস্যায় জনসম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ। নাগরিক দুর্ভোগ, যানজট, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার মতো বিষয়গুলোতে জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা একটি শক্তিশালী সংগঠনের পরিচয় হতে পারে।

নতুন নেতৃত্বের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ : ১. তৃণমূলকে সক্রিয় করা: থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোকে কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করা। ২. অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রতিষ্ঠা: নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সৃষ্ট মতপার্থক্য দূর করে সবাইকে নিয়ে কাজ করা। ৩. জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো: স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। ৪. সাংগঠনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা: কর্মসূচি, কমিটির কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিয়মিত মূল্যায়ন করা। ৫. নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি যোগ্য ও সক্রিয় তরুণ নেতাকর্মীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা: গত ৩০ সেপ্টেম্বর আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের দায়িত্ব দেবে, কীভাবে সাংগঠনিক কাঠামো সাজাবে এবং কোন কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব যেন শুধু পদ-পদবি বণ্টনে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল ও জনসম্পৃক্ত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে।

শেষ মুহূর্তে কার ভাগ্যে জুটবে নেতৃত্বের দায়িত্ব?: মামুন হাসান, এম. কফিল উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, আমিনুল হক, মোস্তফা জামান ও এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন—প্রত্যেকের নাম ঘিরে রয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়, অভিজ্ঞতা ও সমর্থকদের প্রত্যাশা। সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছে একাধিক সম্ভাব্য নাম। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তাই কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রাজনীতিতে পদ পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নেতৃত্বের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তাঁরা কতটা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেন এবং জনস্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন তার ওপর। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জনগণের অধিকার এবং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নেতাকর্মীদের আবেগ ও ভালোবাসা। সেই আবেগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠন ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি তাই শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি সাংগঠনিক ঐক্য, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনআস্থার পরীক্ষাও। শেষ পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পান, তা সময় ও দলীয় সিদ্ধান্তই বলে দেবে। তবে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা একটাই—নতুন নেতৃত্ব যেন বিভক্তির বদলে ঐক্য, ব্যক্তিস্বার্থের বদলে সংগঠন এবং পদমর্যাদার বদলে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Payment Due

Clear Your Payment for Accessing Control

Contact wephic for More Details