, ,
, ,

এ সম্পর্কিত আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

আশরাফুল খান: প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সরকার, নগর জনস্বাস্থ্য, উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বহুমাত্রিক কর্মঅভিজ্ঞতার অধিকারী ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (Director General) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কৃতিসন্তান আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান (লিটন) এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বদলিপূর্বক প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা

আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের প্রশাসনিক কর্মজীবন বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন প্রকল্প, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দিনাজপুরের বিরামপুর ও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।

নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগে আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারি প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে তাকে “Joint Secretary, Local Government Division & Project Director, IUPHPSP” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিবেদনের Resource Persons’ List-এও একই পদবি রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) বিভিন্ন সরকারি নথিতেও তাকে IUPHPSP-এর Project Director (Joint Secretary) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

IUPHPSP-এর আওতায় নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা জোরদার, ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে সভাপতিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। সরকারি প্রকল্প প্রতিবেদনে তার নেতৃত্ব ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও প্রশাসনিক দায়িত্ব

সরকারি প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।

২০২৬ সালের একটি প্রকাশ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব এবং BASIS-এর প্রশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিভিন্ন প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়।

ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন খাতের সঙ্গেও তার কর্মঅভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

শিক্ষাজীবনে পদার্থবিজ্ঞান ও পাবলিক পলিসি

আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের শিক্ষাজীবনও বৈচিত্র্যময়। প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে Public Policy and Management বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রশাসনিক কর্মজীবনের পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসের নিয়োগব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে গবেষণার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। “Patterns of Recruitment in Civil Service in Bangladesh” শীর্ষক গবেষণার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তার প্রশাসনিক পেশার সঙ্গে একাডেমিক আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তুলে ধরে।

বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নেও অভিজ্ঞতা

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) এবং উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।

বিনিয়োগ পরিবেশ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পরিধি শুধু প্রচলিত সরকারি প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং অর্থনীতি, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ডেও তা বিস্তৃত হয়েছে।

২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা

আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের প্রকাশ্য কর্মকর্তা তালিকাতেও তার নাম Joint Secretary হিসেবে রয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠ প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত পথচলাকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন অধ্যায়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ও সমন্বয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নতুন দায়িত্বে তার নির্দিষ্ট কর্মপরিধি সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক আদেশ ও পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

তার নিয়োগের খবরটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় আনন্দ ও গর্ব

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সন্তান আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পাওয়ায় নিজ জেলা ও উপজেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাঠ প্রশাসন থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন, নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অর্জিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন দায়িত্বেও তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কর্মজীবনে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সমন্বয় কাঠামোতে কাজের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের কর্মজীবনে এ দুই ধরনের অভিজ্ঞতার সমন্বয় দেখা যায়।

বহুমাত্রিক কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় সরকারের যুগ্মসচিব, নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, BASIS-এর প্রশাসক এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক—আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার এই কৃতিসন্তানের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি তার ব্যক্তিগত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ নিজ এলাকার মানুষের কাছেও আনন্দের সংবাদ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের নতুন দায়িত্ব সফল হোক—এই প্রত্যাশায় তাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Payment Due

Clear Your Payment for Accessing Control

Contact wephic for More Details