জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) মো. নাসির উদ্দিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রতিবাদলিপিতে মো. নাসির উদ্দিন বলেন, একটি কুচক্রী মহল এবং ভূমিদস্যু ও দালালচক্র তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধি-বিধান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কোনো একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করেই দপ্তরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর দাবি, ভিডিওতে যিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন, তিনি তাঁর দপ্তরের অধীনস্থ কর্মী নন এবং ওই অর্থও তাঁর দপ্তরের নয়। এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানোকে তিনি অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন।
হালিশহর হাউজিং এস্টেটের একটি প্লটসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ঘটনা ১৯৯০ সালের, যখন তিনি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। চাকরিতে যোগদানের বহু আগের ঘটনার সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত করা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে তিনি কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। দুদকের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনরায় অনুসন্ধানাধীন এবং তিনি কোনোভাবেই পলাতক নন।
অফিসে নিয়োগবহির্ভূত লোক দিয়ে কাজ করানো ও সরকারি জায়গা থেকে অবৈধভাবে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিশ্বকলোনি এলাকার প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং সেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র। অবৈধ দোকানপাট পরিচালনা বা ভাড়া আদায়ের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কক্সবাজারে ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর নামে কোনো সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেই। রাঙামাটি ও দিনাজপুরে তাঁর নামে বিলাসবহুল বাড়ি থাকার অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, রাঙামাটির বাড়িটি পারিবারিক সম্পত্তি এবং শ্বশুরবাড়ির সম্পদের সঙ্গে তাঁর কোনো মালিকানাগত সম্পর্ক নেই।
সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো সেবাগ্রহীতা তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করেননি। বরং একটি দালালচক্র অনিয়মের সুযোগ না পেয়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি সবসময় সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একপেশে ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।









